ঠাকুরগাঁওয়ে জাটিভাঙ্গা গণহত্যা দিবস পালিত
মো. মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে জাঠিভাঙ্গা গণহত্যা দিবস পালিত হয় । ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল আজকের দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং এদেশীয় দোসর রাজাকার আল বদর- আল সামশ্ তিন হাজারের বেশি নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। চকহলদি, জগন্নাথপুর, সিঙ্গিয়া ও বাসুদেবপুরসহ প্রায় ১২ গ্রামের শত শত মানুষকে লাইন করে মেশিন গানের গুলিতে হত্যা করে। এর পর থেকেই এ দিনটি জাটিভাঙ্গা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের ওই দিনে ১২ টি গ্রামের কয়েক হাজার বাঙালি নারী-পুরুষ ও শিশু ভোরে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। জাটিভাঙ্গায় পৌছালে মিছিলের কথা বলে এদেশীয় দোসররা তাদের নিয়ে যায় জাটিভাঙ্গা মাঠে। সেখানে লাইন করে মেশিনগানের গুলিতে হত্যা করা হয় সব পুরুষদের। হত্যাযজ্ঞ চলে বিকেল পর্যন্ত। বিকেলে পাঞ্জাবীরা চলে গেলে এ দেশীয় দোসররা নদীর পাড়ে লাশ ফেলে সামান্য মাটি চাপা দেয়। পরে নারীদের উপর চলে পাশবিক নির্যাতন। সেই গণহত্যায় আত্মদানকারীদের প্রায় ৩ শতাধিক বিধবা স্ত্রী এখনো বেঁচে আছে। ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম ডা. ফরিদ আহমেদ (ফরিদ ডাক্তার) এ সকল বিধবা নারীদের স্বীকৃতির জন্য মানববন্ধন, মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছিলেন। ওই জায়গায় আজ এ আন্দোলনের ফসল হিসেবে রাষ্ট্রিয় ভাবে জাটিভাঙ্গায় একটি স্মৃতি স্তম্ভ তৈরী করা হয়। সকল শহীদদের মাগফেরাত ও নিরবতা পালন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড.কে এম কামরুজ্জামান সেলিম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা জেলা সন্তান কমান্ড, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখায় যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করেন।