লালদিঘীর মাঠে জব্বারের বলীখেলার ১১০ তম আসর আজ
নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামে লালদিঘীর মাঠে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলার ১১০ তম আসর বসছে আজ।
বিকেল ৩টা থেকে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে লড়বেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বলীরা। শ্রেষ্ঠত্বের লডাইয়ে জিতে নির্বাচিত হবেন সেরা বলী। এবারো সারাদেশ থেকে আসা শতাধিক বলী এই লড়াইতে অংশ নিবেন বলে আয়োজকরা আশা করছেন।
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে আবদুল জব্বারের বলীখেলা চট্টগ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্যের একটি নিদর্শন। শতাব্দী বছর পুরনো এই খেলা প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৯০৯ সালে। চট্টগ্রামের বর্তমান কোতোয়ালী থানার আওতাধীন আন্দরকিল্লা বক্সিরহাটের তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আবদুল জব্বার সওদাগর একক উদ্যোগে নগরীর লালদিঘী ময়দানে বলীখেলার সূচনা করেন।
মূলত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলতে বলী খেলার সূচনা করেছিলেন আবদুল জাব্বার।
জব্বারের বলী খেলা সেই থেকে এখনো চলছে। এদেশ থেকে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ক্রমে হারিয়ে যেতে থাকলেও চট্টগ্রামের জব্বারের বলী খেলা টিকে আছে সগৌরবে। হয়েছে আরও উৎসবমুখর, বর্ণিল। সাথে যোগ হয়েছে আরও নানা আনন্দ আয়োজন। প্রতিবছর বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে জব্বারের বলী খেলা এদেশের অন্যতম বড় লোকজ উৎসব হিসেবে সারাদেশে পরিচিতি পেয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রযুক্তির কারণে এর খ্যাতি ছড়িয়েছে দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও। জব্বারের বলী খেলা বিভিন্ন স্যাটেলাইট মিডিয়া সরাসরি সম্প্রচার করার কারণে এই খেলা এখন সারা বিশ্ব দেখছে।
লাখো মানুষের অংশগ্রহণ থাকছে এই বলী খেলায়। ব্যতিক্রম হবেনা আজও। লাখো উৎসবমুখর জনতার ঢল নামবে লালদীঘি মাঠে। এ উপলক্ষে নগরীর লালদীঘি মাঠ ছাড়িয়ে প্রায় তিন বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে বৈশাখী মেলা।
১০৯ তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার তারিকুল ইসলাম জীবন বলী। এর আগে টানা ১২ বছর ধরে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন কক্সবাজার জেলারই দিদার বলী। এই বলীখেলায় অংশগ্রহণকারী দিদারবলী ছাড়াও অন্য যেসব বলীদের নাম শোনা যায় তারা হলেন পটিয়ার হিলাল বলী, একই উপজেলার হাইদগাঁও- এর অলি বলী, মুজাহিদ বলী, আশিয়ার আমানশাহ বলী, জিরির ইন্দবলী, ইশ্বরখাইন ধলঘাটের গণি বলী, শোভনদন্ডীর তোরপোচ বলী, হুলাইনের হিম বলী, বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়ার যুগী বলী, চন্দনাইশ উপজেলার বরকলের লাল মিয়া বলী, বরমার আহমদ ছফা বলী, আনোয়ারা চাতরীর চিকন বলী, সাতকানিয়া খাগরিয়ার চান্দ বলীর নাম খ্যাতি রয়েছে।
সময় পাল্টালেও বলী চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কারের মান পাল্টায়নি। চ্যাম্পিয়ন বলীকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় গোল্ড মেডেল, ক্রেস্ট এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা। রানার্স আপ বলীকে দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট। যা কয়েকগুণ বাড়ানো এখন সময়েরই দাবী।