--- বিজ্ঞাপন ---

চট্টগ্রামে দিনেদুপুরে গৃহবধূ খুন

0

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানীগঞ্জে আবুল কাশেম নামে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে হত্যার পর মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেকেও তারা ছুরিকাঘাত করে।

৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। খাতুনগঞ্জের গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এম এ কাশেম ট্রেডিংয়ের মালিক আবুল কাশেম আমিন বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকেন।

এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) নোবেল চাকমা গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিজ বাসায় গৃহবধূ রোকসানা বেগম তার পূর্ব পরিচিত কোনো ব্যক্তির হাতে খুন হয়েছেন।

তিনি বলেন, বাসার আলমারি ও বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ হয়েছে। একজন ব্যক্তিই এ খুনে জড়িত।

পাঁচতলা ভবনের চারতলার একটি বাসায় ছুরি মেরে হত্যা করা হয় রোকসানা বেগমকে (৪২)। আর কুপিয়ে আহত করা হয় তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে আব্দুল আজিজকে (২১)। মাকে খুন ও ছেলেকে আহত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি এক প্রতিবেশীকেও ছুরি মারেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোম্বাইয়া আমিনের ভবনের চারতলার একটি ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা পানি দিয়ে নিভিয়ে ফেলেন। তখন পাশের একটি বেড রুমে খাটের দিকে মুখ করে রোখসানার রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

খাটের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছিল ছেলে আজিজ। তার নড়াছড়া দেখে স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই সময় বাসায় আর কেউ ছিলেন না।

নিহতের স্বামী আবুল কাশেম বলেন, দুপুরে আমাকে জানানো হয়, আমার ঘরে আগুন লেগেছে। আমি এসে দেখি আমার স্ত্রী মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আমার ছেলেকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘৪৫ দিন আগে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, আমার ছেলের একটা বিবাদ আছে, সেটা যেন দ্রুত মিটিয়ে ফেলি।

এই বিষয়ে ওই নম্বরটি উল্লেখ করে কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করি। কিন্তু থানা থেকে এখনো কোনো কিছুই জানানো হয়নি।’

স্থানীয় নাজিম উদ্দীন বলেন, এক যুবককে একহাতে ছুরি ও আরেক হাতে একটি খেলনা অস্ত্র হাতে নগরীর টেরিবাজারের দিকে ছুটতে দেখা গেছে। পরে টেরিবাজার বক্সিরহাট মোড়ে এসে সেই ছুরিটি ফেলে ওই যুবকটি পালিয়ে যান। তবে ওই যুবককে কেউ শনাক্ত করতে পারেনি।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর বাসাটি থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।

দুপুর দুইটার দিকে প্রতিবেশীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি বাসায় আসেন জানিয়ে নিহত রোকসানার বড় ছেলে মো. তারেক বলেন, বাসায় দুই ভাই ও বাবা-মা থাকতেন। সকাল ১১ টার দিকে আমি বাবার সাথে অফিসে চলে যাই। ছোট ভাই বাসার বাইরে এবং মা ওই সময় বাসায় একা ছিলেন।

দাড়িওয়ালা ওই ব্যক্তির পরনে ছিল কালো গেঞ্জি ও প্যান্ট এই তথ্য জানিয়ে রোকসানাদের গৃহকর্মী ইয়াসমিন বলেন, “সকাল সোয়া ১১টার দিকে আমি বাসায় আসি কাজ করতে। কাজ শেষে ওপরের তলার (পঞ্চম তলা) বাসায় যাওয়ার সময় খালাকে বেতনের কথা বলি। তিনি উপরের বাসার কাজ শেষ করে যাওয়ার সময় বেতন নিয়ে যেতে বলেছিলেন। ওপরের তলার বাসার কাজ শেষ করে এ বাসায় ঢুকতেই কালো গেঞ্জি ও প্যান্ট পড়া, দাড়িওয়ালা এক লোক রক্তমাখা ছুরি হাতে আমাকে ধরে ফেলে।

আমি ভয়ে নিজেকে বাসার কাজের বুয়া পরিচয় দিয়ে তার পা ধরে ফেলি এবং দৌঁড়ে বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে আমাকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় গালি দিয়ে নিচে বসিয়ে রাখে।

ওই ব্যক্তি বিছানায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল জানিয়ে ইয়াসমিন বলেন, “পুরো ঘরে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এসময় ভাইয়া (আজিজ) বাসায় ঢোকার সাথে সাথে পেছন থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে ওই লোক।

ভাইয়াকে ও আমাকে টেনে বেডরুমে ঢুকিয়ে দিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় তিনজনকে পুড়ে মরার কথা বলে এবং রান্নাঘরে গিয়ে কিছু কাপড় ও তুলায় আগুন লাগিয়ে দেয়।

অপরদিকে কাশেম তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ভাগ্নে হাসান মুরাদ বলেন, আমরা দোকানে নামাজ পড়ছিলাম। হঠাৎ শুনতে পাই, কাশেম মামার বাসায় ডাকাত আক্রমণ করেছে। আমরা দ্রুত ১০ মিনিটের মধ্যে বাসায় আসি।

এখানে এসে দেখি মামির রক্তাক্ত লাশ খাটের পাশে পড়ে আছে। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে উনার ছেলে। ঘরের সব মালালার এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচতলা ভবনে মোট নয়টি বাসা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় বাড়িওয়ালা থাকেন। চারতলায় রোকসানার প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এমদাদ।

এমদাদের স্ত্রী শাহনাজ হোসেনের কাছেই রোকসানাদের বাসার কোনটি জানতে চেয়েছিলেন প্যান্ট ও কালো গেঞ্জি পড়া দাঁড়িওয়ালা ওই ব্যক্তি।

আমি ইশারায় বাসাটি দেখিয়ে দিলে লোকটি দরজার কড়া নাড়ে। এসময় দরজা খুলে রোকসানাকে ‘ম অনে এতদিন পরে…’ বলতে শুনেছি। তখন আমি আমার বাসার দরজা বন্ধ করে দিই।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মহসিন গণমাধ্যমে বলেছেন, বাসাটি থেকে কিছু জিনিসপত্র খোয়া গেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.