--- বিজ্ঞাপন ---

রাঙ্গুনিয়ায় গৃহবধুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী আটক, পুলিশের ৭দিনের রিমাণ্ড আবেদন

0

নিউজ ডেস্ক: রাঙ্গুনিয়ায় স্ত্রী খুনের অভিযোগে স্বামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২ মে বৃহষ্পতিবার সকালে রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ তাঁকে কারাগারে পাঠান। পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ নোয়াগাঁও এলাকার নবীর হোসেনের ছেলে মো. আলমগীর (২৮) তাঁর স্ত্রী শাহেদা শারমিন (২২) কে খুনের অভিযোগে বুধবার (১ মে) সন্ধ্যার দিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর আগে বুধবার দিনগত রাত ১ টার দিকে মো. আলমগীর হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত গৃহবধু শারমিন স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের শান্তি নিকেতন গ্রামের মো. শহীদুল্লাহ’র মেয়ে।
রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, “বৃহষ্পতিবার আসামীর ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ড নাকি অন্য কিছু বুঝা যাবে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে আজ দুপুরে মেয়ের বাবাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকেলে মেয়ের বাবার বাড়িতে নিহত গৃহবধূ শারমিনকে দাফন করা হয়েছে।”
মামলার বিবরণ, পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সকালে পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ নোয়াগাঁও শশুড় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শারমিন। বুধবার (১ মে) সাড়ে ৫ টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার পাশ্ববর্তী উপজেলা রাউজানের কর্নফুলি নদীর খেলারঘাট থেকে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুপুরে খবর পেয়ে নিহত গৃহবধুর স্বজনরা গিয়ে তাঁর লাশ সনাক্ত করেন। বুধবার (১ মে) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে খেলা ঘাটে গিয়ে দেখা যায় নদী পাড়ে প্রচুর উৎসুক লোকের ভিড়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহালের জন্য ব্যস্ত রয়েছে। এই সময় মেয়ের বাবা মো. শহীদুল্লাহ নদী পাড়ে বিষন্ন হয়ে দাড়িয়ে আছেন।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, “৬ মাস আগে মেয়ের বিয়ে হয়। মঙ্গলবার শ্বশুড় বাড়ি থেকে মেয়ের নিখোঁজের খবর পেয়ে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়রী করেছেন। মেয়েকে খুন করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আটকের আগে লাশ উদ্ধারের সময় নিহত গৃহবধুর স্বামী দাড়িয়ে ছিলেন নদীপাড়ে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ ঢাকায় একটি আবাসিক ভবনে কেয়ারটেকার হিসেবে তিনি চাকুরি করেন। ১৮ এপ্রিল তার স্ত্রীর বড় ভাই মো রাসেলের বিয়ে উপলক্ষে সে বাড়িতে এসেছিল। ২৯শে এপ্রিল সোমবার রাত ৮ টার দিকে বাসে ঢাকায় চলে যান। মঙ্গলবার সকালে সে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্ত্রী নিখোঁজ। সংবাদ পেয়ে সে বাড়িতে আসে। তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। অনেকবার চিকিৎসক দেখিয়েছেন। তার স্ত্রী নিজে ঘর থেকে বের হয়েছেন। নদীর পাশে ঘর তাই নদীতে পড়ে তিনি মারা গেছেন দাবি করেন। ”

জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল
রাঙ্গুনিয়ায় বিষপানে নিহত মা ও দুই শিশুকন্যার জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছে। বুধবার (১ মে) বিকাল ৪টার দিকে লাশগুলো ময়নাতদন্ত শেষে উপজেলার পূর্ব সরফভাটা শিকদার পাড়া তার শ্বশুর বাড়ির এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ সমবেত হয়। পরে ওই এলাকায় ইকরা ইসলামীক একাডেমী সংলগ্ন মসজিদ মাঠে বিকাল ৫টার দিকে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে বলে জানান নিহত গৃহবধূর মেঝ ভাই সাইফুল আলম। দুই শিশুকে নিয়ে মায়ের বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় এখনো পলাতক রয়েছে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় নিহতের স্বজনরা।
উল্লেখ্য গত ২৯ এপ্রিল দিনগত রাত পৌনে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের শিকদার পাড়া এলাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন, ওই এলাকার মো. নূর নবীর স্ত্রী ডেইজি আকতার (২৮), মেয়ে ইভা আকতার (৬) ও ইসরাত নূর(১০ মাস)।
নিহত গৃহবধূর ভাই মো. সাইফুল আলম বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে তার শ্বশুর বাড়ি এলাকায় দাফন করা হয়েছে। ডেজি আমাদের ৬ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট ও আদরের ছিল। ২০০৯ সালের মে মাসে বিয়ের পর থেকে বোনের সুখের জন্য তার স্বামীর বিভিন্ন দাবী পূরণ করে যাচ্ছি। কিন্তু এরপরেও অত্যাচার থেমে ছিল না। তাকে ছোটখাট বিষয়ে বেধড়ক মারধর করতো তার স্বামী। ঘটনার দিন দুপুরে এবং ২০ মিনিট পূর্বেও তাকে মারধর করেছে সে। সর্বশেষ তার স্বামীর নতুন ঘর করার কাজেও ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। বিভিন্ন সময় আমার বোন অত্যাচার সইতে না পেরে ঘরে চলে আসলে আমরা বার বার বিভিন্ন আপোষ বৈঠকে তার অঙ্গিকারের কথা বিশ্বাস করে বোনকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে স্বামীর ঘরে পাঠিয়েছি। সর্বশেষ তার স্বামীকে বিশ্বাস করে পেয়েছি বোন এবং ছোট দুই ভাগনীর লাশ।’

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.