চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও বোনাস ছাড়ের চেকে স্বাক্ষর করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।
পদাধিকার বলে বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ। তার স্বাক্ষর ছাড়া এভাবে অর্থ ছাড়ের বিষয়টিকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবেই দেখছেন সমালোচকরা। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ‘এটি সিডিএ’র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পদাধিকার বলে সিডিএ চেয়ারম্যানই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিষয়টি সচিবকে দেখতে বলেছি। সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার স্বাক্ষর ছাড়া কিভাবে চেক জমা দিয়েছে, কেন বিষয়টি এখনো জানানো হয়নি তার কৈফিয়ত সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের কাছে চাওয়া হবে।’
জানা গেছে, ২০১২-১৩ সালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় প্রায় এক একর জমিতে সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ গড়ে তোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আবদুচ ছালাম গত ২৪ এপ্রিল সিডিএ থেকে বিদায় নেন। ২৯ এপ্রিল তার স্থলাভিষিক্ত হন জহিরুল আলম দোভাষ। সেই হিসেবে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সভাপতিও তিনি।
কিন্তু তার অজ্ঞাতে আবদুচ ছালাম ও সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ গাজীউল হকের স্বাক্ষরে দুইটি চেকের টাকা ছাড় দেয়ার আবেদন করা হয়।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক মোহরা শাখায় গত ২৮ মে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫০ টাকা এবং ৩০ মে ৯১ হাজার ৯৫২ টাকা ছাড়ের এ স্বাক্ষরে আবদুচ ছালামের নামের পরিচিতি হিসেবে সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান উল্লেখ করা হয়েছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক মোহরা শাখার ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদের দাবি, ‘আবদুচ ছালাম সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংক একাউন্ট করেননি, স্কুলের চেয়ারম্যান হিসেবে একাউন্টে স্বাক্ষর করেছেন।’
এ ব্যাপারে আবদুচ ছালামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পরিবর্তন হলে প্রধান শিক্ষক শিক্ষাবোর্ড ও ব্যাংককে এ ব্যাপারে অবহিত করা এবং নতুন সভাপতির স্বাক্ষরে চেক দেয়াটাই নিয়ম। ওই প্রতিষ্ঠানে এর ব্যত্যয় ঘটেছে।