--- বিজ্ঞাপন ---

৫০ বছরের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে কেন পরিকল্পনা নেয়া হয় না…প্রশ্ন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের

0

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের এখন আগের পুরোনো চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করা চলবেনা। আমরা টাউন প্ল্যানিং করিনা। আমাদের কমপক্ষে আগামী ৫০ বছরের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।’ আমাদের সামনে ভীশন থাকতে হবে। চীনের দৃষ্টিনন্দন স্মাট সিটি শেনজেন এর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বস্তির শহর থেকে শেনজেনকে পরিকল্পিত ভাবে রুপান্তর করা হয়েছে একটি অতি আধুনিক সিটিতে। আজ পৃথিবীতে চীন একটি বড় উদহারণ। মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছায় ডেল্টা প্ল্যানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন, পিসি রোড, আগ্রাবাদ একসেস রোডসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি সময়মত এসব কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিচ্ছেন উল্লেখ করে দেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে চট্টগ্রাম অর্থনীতিতে অবদান রেখে এসেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের বৃহৎ সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ( সিসিসিআই) আয়োজিত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে পানি সরবরাহ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আগ্রবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যেও মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ ইকনোমিক জোন অথরিটি (বেজা)’র সদস্য মোঃ হারুনুর রশিদ, ওয়াসার এমডি ইঞ্জিনিয়ার এ.কে.এম. ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ নুরুল আলম নিজামী, চেম্বার পরিচালক এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, মোঃ রকিবুর রহমান (টুটুল) ও মোঃ শাহরিয়ার জাহান, নবনির্বাচিত পরিচালকবৃন্দ এস. এম. আবু তৈয়ব, মোঃ এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, ইউরো পেট্রো প্রোডাক্ট লিঃ’র চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, জিপিএইচ ইস্পাত’র অতিরিক্ত এমডি আলমাস শিমুল ও বিএসআরএম’র ডিএমডি তপন সেন গুপ্ত প্রমূখ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি বন্দরের চ্যানেলে পলিথিনের কারণে আধুনিক ড্রেজার দিয়েও ড্রেজিং করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ছিল বলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ভালো এসেছে। অথচ পলিথিনের স্তরের কারণে একসময় এ বন্দর অকার্যকর হয়ে পড়বে। এটা হতে দেয়া যায়না। আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’ ‘আমাদের অর্থনীতি এখন আগের চাইতে অনেক উন্নত। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত যোগ্য নেতৃত্ব ও দেশের জন্য তাঁর ভাল পরিকল্পনার জন্য বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। সে আলোকেই আমরা এগিয়ে যাবো।’ মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, চীনের মাওসেতুং যদি, মালয়েশিয়ার মাহথির মোহাম্মদ, সিঙ্গাপুরের লী কুয়ান যদি তাদেও দেশকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো যোগ্য নেতৃত্ব থাকতে আমরা কেন পারবনা ? এ কারণটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকে কাজ করতে হবে। তিনি কোন প্রকল্প তৈরীর আগে জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি করে ব্যক্তিগত লাভের জন্য কোন প্রকল্প তৈরী করলে বর্তমান সরকার এটা মেনে নেবেনা উল্লেখ করে বলেন, রাজনীতি কিংবা সংকীর্ণতার উর্দ্ধে থেকে সকলে মিলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার আহŸান জানান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আরও সচ্ছতা আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এখন থেকে দেশের প্রতিটি স্থানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ বাক্্র থাকবে সেখানে কোন বিষয়ে কারও কোন অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত। কোনো কাজ বাকি থাকবে না। গতকাল এক দিনে আমি ১০৭টি ফাইল সই করেছি। আমি নিজেকে শেখ হাসিনার একজন কর্মী মনে করি।’চট্টগ্রামের সম্ভাবনা প্রচুর। কয়েক হাজার কোটি টাকার বড় মাপের প্রকল্প হবে। অনেক শিল্প- কারখানা স্থাপিত হবে। সবাই মিলে এক হয়ে কাজ করতে হবে। জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা পানির নিচে চলে যায়। নেদারল্যান্ড প্রমাণ করেছে- পানি ব্যবস্থাপনা কীভাবে করতে হয়। মন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি প্রকল্প নেবেন, ডিপিপি নেবেন, তত তাড়াতাড়ি একনেকে প্রকল্প পাস হবে। একনেকে অনুমোদন হবে। চট্টগ্রামের মন্ত্রীদের সঙ্গে বসে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আ. জ. ম. নাছির উদ্দীন বলেন, নগরে ৪০টি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান আছে। সমন্বয়ের জন্য অনেক সভা করেছি। প্রকল্প গ্রহণের আগে সমন্বয় করতে হবে। নয়তো ফলপ্রসূ হবে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিরসরাইতে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। শিল্প কারখানায় ফ্রেশ ওয়াটার সাপ্লাইয়ের উদ্যোগ নেব। এতদিন ওয়াসা গৃহস্থালি পানি দিত, এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানি দেবে। ওয়াসা স্টাডি করবে পানির উৎস সম্পর্কে। বেজা ব্যয় বহন করবে স্টাডির। তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত। ১৩৫ কোটি লিটার পানি লাগবে। ৬৫০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওয়াসার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, মিরসরাই-সীতাকুন্ডের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রস্তুত। দেশে ওয়াটার গ্রিড করতে হবে। ডিপিপি তৈরি করে আমরা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবো। বেজার নির্বাহী সদস্য মো. হারুনুর রশিদ বলেন, মিরসরাইতে ৩০ হাজার একরজুড়ে ৩ মাসের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান হয়ে যাবে। ১৫০ বিনিয়োগকারীকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়ে গেছে। ২৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত। ১৩৫ কোটি লিটার পানি লাগবে। ৬৫০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওয়াসার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। চেম্বার পরিচালক এ.কে.এম. আকতার হোসাইন বলেন, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে যে আমদানি অনুমোদন (আইপি) নিতে পারতাম সেটি ঢাকা থেকে নিতে হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে একটি আইপি পেতে ১৫ দিন লাগে। এসএম আবু তৈয়ব বলেন, চীনের মতো সুপরিকল্পিতভাবে মিরসরাই স্পেশাল ইকোনমিক জোনকে সাজাতে হবে। শিল্পোদ্যোক্তা সৈয়দ এম তানভির বলেন, মিরসরাই ইকোনমিক জোনে ৫০০ একর জায়গা বিজিএমইকে দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ অ্যাপারেল জোনে ডায়িং, ওয়াশিং প্ল্যান্টে পানি লাগবে দিনে সাড়ে ৬ কোটি লিটার। ৯০ শতাংশ পানি রিইউস হবে। খুব তাড়াতাড়ি পানির ব্যবস্থা না হলে ফ্যাক্টরি উৎপাদনে যেতে পারবে না।
জিপিএইচের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর অত্যন্ত খুশি। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছি। কম দামে পণ্য পেয়ে দেশের মানুষ খুশি। এখন বড় সমস্যা পানির।
সভাপতির বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সীতাকুন্ড শিল্পাঞ্চলে প্রধানতঃ ইস্পাত, সিমেন্ট, এলপিজি ও গার্মেন্টসসহ প্রায় ৪০০ শিল্পে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ, লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জাতীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু ঐ এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রণ থাকা এবং পানির স্তর অনেক গভীরে নেমে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এসব শিল্প কারখানা অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে এবং নতুন করে কোন শিল্প স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চিটাগাং চেম্বার গত ফেব্রæয়ারী ২০১৭ ইং থেকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়মিতভাবে দাবী জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখের পত্রের প্রেক্ষিতে আজকের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও সচিবকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি মিরসরাই শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবী জানান। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন, মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং, চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীতকরণ এবং এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু স্থাপন এবং কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণে দ্রæত ও কার্যকর অগ্রগতি দাবী করেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। পরে তিনি চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মত বিনিময় করেন।

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.