গত সোমবার মৃত্যুর কাছে হার মানলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে মোটা মানুষ নুর হাসান। ওজন কমানোর জন্য তিনি সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করলে তাকে হেলিকপ্টারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তবে ভর্তির তিন সপ্তাহ পর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার মৃত্যু নিয়ে পাকিস্তানে অবশ্যই বেশ তোলপাড় চলছে। তার মৃত্যুকে অস্বাভাবিক বলছে পাকিস্তানীরা। কারন তাকে যেখানে রাখা হয়েছিল তার পাশের আরেক মহিলা রোগীর অবহেলা জনিত মৃত্যু ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাংচুর হলে বেকায়দায় পড়ে নুর হাসান।
ঘটনার সময় যে যেভাবে পারছে পালায়। ফলে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে নুর। তার শারিরীক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পাক সরকার এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে নুর হাসান কয়েক বছর ধরেই শুয়ে বসে সময় পার করছিল। বিছানা ছিলো তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। ৩৩০ কেজি।ওজন নিয়ে তার হাঁটাচলার ক্ষমতা ছিল না। উঠেও বসতেও পারেন না।
নুর হাসান তাকে বাচাঁতে সেনা প্রধানের হস্তক্ষেপ চাইলেন। পাক সেনা প্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া তার এ অবস্থা দেখে সহানুভুতির সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। প্রায় ১০০০ ব্যাক্তিকে তিনি তাকে নিয়ে আসার জন্য পাঠান। তাকে একটি মিনি ট্রাকে করে দরজা-জানালা ভেঙ্গে বের করে নিয়ে আসেন। সেনা প্রধান তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। বিশালদেহী নূরকে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সাদিকাবাদের বাড়ি থেকে লাহোরে নিয়ে যাওয়া নিয়ে যাওয়া হয়। পাক সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে তাকে লাহোর উড়িয়ে নিয়ে যায়। সেখানেই সরকারি হাসপাতালে নূরের চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্ত তার চিকিৎসা চলাকালে হাসপাতালে ঘটে যায় অপ্রতিকর ঘটনা। এ ঘটনার শিকার হয়ে মারা যাস নুর হাসান। তার মৃত্যু পাকিস্তানের জনসাধারন কোনভাবে মেনে নিতে পারছে না। কারন বাচাঁর জন্য লড়াই করেছে নুর হাসান। পাকিস্তানে তার মৃত্যু এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি।