যখন কেউ পরীক্ষায় ফেল করে তখন লোকজন তাকে খারাপ ভাবতে শুরু করে। লোকজনের ধারণা এমন হয় যেন এদের দ্বারা কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। এরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝাস্বরূপ। আর যারা পরীক্ষায় পাস করে তাদের ব্যাপারে মানুষজনের মনোভাব থাকে ঠিক উল্টো।
সবাই উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কদর করে। তাদের সবাইকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অমূল্য সম্পদ মনে করা হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে পরীক্ষায় পাস-ফেলই কি জীবনের সব ?
কেন জানি আমাদের পরিবারগুলো বুঝতে চায় না, পরীক্ষার ফলাফলই জীবনের সব কিছু নয়। পরীক্ষায় ফেল করেও পরবর্তীকালে চেষ্টা করলে অনেক ভালো কিছু করা যায়। এরকম হাজার হাজার উদাহরণ আছে। আমাদের সমাজের একটি দুর্বলতম দিক হলো মানুষকে তার পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়ে বিচার করা হয়। এটা মানুষকে যাচাইয়ের সর্বনিম্ন মানদণ্ডগুলোর মধ্যে একটি।
অথচ আমাদের দেশে এটাকেই সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসাবে গণ্য করা হয়। এটা অন্যায়। এটা নির্মম। পরীক্ষায় যারা ভালো করে জীবনযুদ্ধেও তারা ভালো করবে এটাই স্বাভাবিক। আর সবাই তাদের কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশা করে। তবে বাস্তবতা হলো অনেকেই পারে আবার অনেকেই তা পারে না।
এটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমাদের চিন্তা যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না তাদের নিয়ে। তাদের দ্বারাও ভালো কিছু করা সম্ভব। এজন্য তাদের খুব শক্ত হতে হবে, করতে হবে আগের চেয়ে আরো বেশি কঠোর পরিশ্রম। পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কোনো কিছু নেই। মানুষ ইচ্ছা করলে সব কিছুই করা সম্ভব।
আজ উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশিত হবে। ফলাফল যাই হোক যারা অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে উত্তীর্ণ হতে পারবে না তাদের অনেকেই হতাশায় ভেঙে পড়বে, ভুল সিদ্ধান্ত নিবে। তাই তাদের প্রতি সচেতন হবেন।আচরনে সাবধান।