--- বিজ্ঞাপন ---

যানজটের জন্য বন্দরের দোষ নেই..বন্দর চেয়ারম্যান

0

চট্টগ্রাম জুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, বারিক বিল্ডিং থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত ওয়াসার পাইপ লাইন, পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোডে সংস্কার এবং সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কসহ চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন সড়কগুলোতে বড় বড় গর্তের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বন্দরের বাইরে যানজটের সৃষ্টি হয়। যা কোনো অবস্থাতেই চট্টগ্রাম বন্দরের কারণে হয় না। বন্দরের বাইরে তীব্র যানজট নিরসনে নগরের জন্য প্রস্তাবিত দুইটি রিং রোড বাস্তবায়ন অতি জরুরি।
গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বন্দরের নিকটে বড়পুল-আনন্দবাজার-ইপিজেড সড়ক। আর অন্যটি জিইসি-সাগরিকা-বেড়িবাঁধ সড়ক। এ সড়ক দুইটি দ্রুত হলে চট্টগ্রাম শহরের লাইফ লাইন খ্যাত এয়ারপোর্ট-আগ্রাবাদ-লালখানবাজার সড়কে যানজটের তীব্রতা অনেক কমে আসবে। বন্দরের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে বে টার্মিনাল ইয়ার্ড নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে এফসিএল কনটেইনারের পণ্য ডেলিভারির পাশাপাশি একটি আধুনিক ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে আরও উপস্থিত ছিলেন, বন্দরের সদস্য প্রকৌশল কমোডোর আখতার হোসেন (ড. প্রকৌ.) ,সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম, সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন), পরিচালক (নিরাপত্তা), বন্দর সচিব ওমর ফারুক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ। যানজটের কথা উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, বন্দরে প্রতিদিন ৭ হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার প্রবেশ করে। ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার গাড়ি বন্দরে ঢোকার জন্য বিভিন্ন গেট ও মূল সড়কে অবস্থান করে থাকে। পাস নেওয়ার জন্য সিঅ্যান্ডএফ গেট স্লিপ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র / অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকায় গেট পাস নিতে দেরি হয়। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর গত ৬ মে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০০ এবং রমজান মাসে গত ১২ জুন ৪ হাজার ৮০০ টিইইউ’স কনটেইনার ও কার্গো ডেলিভারি হয়। এ সময়ে বন্দরের বাইরে যানজট দেখা যায়নি।। বন্দরে ট্রাক, ট্রেইলার ও কাভার্ডভ্যান ঢোকার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরের বাইরে যানজটের সৃষ্টি হয়। যা কোনো অবস্থাতেই চট্টগ্রাম বন্দরের কারণে সৃষ্টি হয়নি। তাই তীব্র যানজটের জন্য মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্দরের যানবাহন ও গণপরিবহনের একই সড়কে চলাচল ও শহরের জন্য বিকল্প সড়ক তৈরি না হওয়াকে চিহ্নিত করা যায়।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর নতুন নতুন যান্ত্রিক উপকরণ সংযোজন ও ইয়ার্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান জানান, বন্দরে আইএসপিএস কোডের শর্ত অনুযায়ী এসব গাড়ি, চালক ও সহকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩২ হাজার ৭৬৯ জন চালক-সহকারী ডাটাবেজভুক্ত হয়েছেন। ২৯ হাজার ৭৬৯ জনকে ডিজিটাল পাস দেওয়া হয়েছে। সহকারীর বয়স ১৩-১৫ হলে শ্রম আইন মেনে বন্দরের প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৭টি বেসরকারি অফডকের ট্রেইলার ২৪ ঘণ্টা চলাচলের ডাটাবেজ সম্পন্ন হয়েছে। ডাটাবেজ তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করতে বন্দরের গেটগুলোর পাশাপাশি সুবিধাজনক স্থানে এ কার্যক্রম শিগগির শুরু করবেন জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ডাটাবেজের জন্য আরও বুথ বাড়ানো হবে, ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.