
মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম,(২৪ জুলাই) : এককালের যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ বলে পরিচিত পাকিস্তানের উপর মার্কিন সরকার ও জনগণ গত একদশকেরও বেশী সময় ধরে নাখোশ ছিল। সম্পর্ক ছিল কখনও চড়াই আবার কখনও উৎরাই। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলার জন্য দায়ী ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানে গোপন কমান্ডো অভিযান চালিয়ে হত্যা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে লাদেনকে গোপন মিশনে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানের এবোটাবাদে হত্যার পর থেকেই মূলত: দুদেশের সম্পর্ক অবনতির দিকে চলে যায়। সেসময় পাকিস্তান মিত্র দেশটিকে আগাম না জানিয়ে এককভাবে লাদেনকে হত্যার অভিযান করায় পাকিস্তান ক্ষুদ্ধ হয়। পাক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি শূন্যের কোঠায় পৌঁছে ।
এবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মত ওয়াশিংটনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এসে শীর্ষ পর্যায়ের মার্কিন নেতৃত্বের মন জয় করলেন তিনি। হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফাস্ট লেডি। মার্কিন ফাস্ট লেডি মেলিনিয়া ট্রাম্প টুইট বার্তায় ইমরান খানকে হোয়াইট হাউসে পেয়ে তার আনন্দ ব্যক্ত করেন।

ফাস্ট লেডির অফিসিয়াল টুইটে মেলিনিয়া বলেন, ২২ জুলাই ইমরান খানকে হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশী ও আনন্দিত। টুইট বার্তার সাথে ইমরান খানের সাথে তোলা ছবিও ফাস্ট লেডি পোস্ট করেন। পাকিস্তানের দৈনিক পত্রিকাসমূহে মার্কিন ফাস্ট লেডির টুইট বার্তা ও তার সাথে তোলা ছবি প্রকাশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগে ইমরান খান একজন নামী ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট বিজয়ী হয়। বৃটিশ প্রিন্সেস ডায়ানার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ইহুদী ধনকুবের পরিবারের জেমিমা মার্সেলি গোল্ডস্মিথকে ১৯৯৫সালের ২১ জুন বিয়ে করে সেসময় বেশ আলোচিত হন। জেমিমা মুসলমান হয়ে জেমিমা খান হন। নয় বছর পর ২০০৪ সালের ২২ জুন বোঝাপড়ার মাধ্যমে উভয়ে ছাড়াছাড়ি হয়ে যান।

বিশ্ব ক্রিকেট অংগনে সুপরিচিতি ও জেমিমাকে বিবাহের সূত্রে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাশ্চাত্যে অনেক বন্ধু রয়েছে । বৃটিশ নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার একজন ভাল বন্ধু।