--- বিজ্ঞাপন ---

জনতার মুখোমুখি চট্টগ্রামের মেয়র…. দুধের মাছির কারণে দু:সময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা

0

দুঃসময়ে যারা মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের জন্য দমন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন, নানা ত্যাগ-তিতিক্ষায়ও নীতি বিসর্জন দেননি, আ জ ম নাছিরের অনুসারী, সমর্থক বা শুভাকাঙ্ক্ষী পরিচয়ের কারণে সমাজে নানামুখী অপমান, অবহেলার পাত্র হতে হয়েছে, সেইসব ত্যাগী, নিবেদিত নেতাকর্মীরাই আজ মেয়রের কাছে যেতে পারছেন না। মেয়রের কাছে যেতে তাদেরকে পার করতে হয় নানামুখী প্রতিবন্ধকতা। সইতে হয় গঞ্জনা। নেতাকর্মীরা মেয়রের সাথে দেখা করতে নগর ভবনে গেলে সেখানেও অপমান, হাসিঠাট্টা আবার মেয়রের বাস ভবনে ঢুকতে গেলে সেখানেও নানা বাধা বিপত্তি। অথচ মেয়রের দুঃসময়ে যারা ছিলেন মেয়রের চরম বিরোধী, আ জ ম নাছিরের নাম বললে যারা টিপ্পনি কাটতো, এখন তারাই হয়ে উঠেছে মেয়রের কাছের কর্মী, অনুসারী। এসব দুধের মাছির কারণে দু:সময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা।

বৃহস্পতিবার নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে “জনতার মুখোমুখি মেয়র” শীর্ষক অনুষ্ঠানে নগরবাসীর সাথে সরাসরি যুক্ত হন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। মুখোমুখির এই আসরে মেয়রকে সামনে পেয়ে পুঞ্জীভুত অপমান, ক্ষোভ চোখের জলে মেয়রের কাছেই এভাবেই তুলে ধরেন ত্যাগী নিবেদিত নেতাকর্মীরা।

জামালখান ওয়ার্ডের ত্যাগী নিবেদিত নেতাকর্মীদের এমন আবেগঘন অনুযোগের জবাবে মেয়র বলেন, আমার কাছে দলমত নির্বিশেষে সকল নেতাকর্মী অবাধে আসেন। আমার কাছে যেভাবে লোকজন  আসার সুযোগ পায়। অন্য কোন নেতার কাছে সে সুযোগ পান কিনা প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিদিন আমার বাসায় কয়েকশ’ লোক দেখা করতে আসেন। ভর্তি, চাকরি, ব্যবসা, বাণিজ্য, অনুদানসহ এহেন কোন আবদার নেই আমার কাছে আসে না। তাদের প্রত্যেককে আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করে থাকি। তাছাড়া নগর ভবনেও একই অবস্থা। আমার দপ্তরে সবসময় জনসমাগম। লোকজনের উপস্থিতির কারণে দাপ্তরিক কাজ করাও কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। মেয়র বলেন, সারাক্ষণ আমাকে কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। হাতে করি নিত্যকর্ম, মুখে বলি খোদা- এভাবেই আমার দিন কাটে। ভিড় কমাতে আমি লোকজনকে বলি আপনার কথা আপনি বলে ফেলুন আমি শুনছি। অনেক সময় লোকজন এমনও মনে করেন যে আমি বোধহয় তাদের কথা গুরুত্ব দিচ্ছি না। সবাইকে আমার কাউন্সিলিং করতে হয়। খুশি রাখতে হয়। আমার সাথে দেখা করতে হয়তো ধৈর্য্যচ্যুতি জনিত কারণে নেতাকর্মীদের মনে আক্ষেপ, হতাশা তৈরি হতেই পারে। তবে দেখা না করে চলে যেতে হয়েছে  এমন তো নয়। নেতাকর্মীদের আবেগ আমার  উপর তাদের আবদারের বহিঃপ্রকাশ।

নগরীতে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, শিশুদের জন্য নগরে সরকারের পাশাপাশি  বেসরকারিভাবে অনেকে কাজ করছেন। তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। শিশুদের জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারীদেরকে মেয়র স্ব অবস্থান থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি নগরে মাতৃসদন নির্মাণের ব্যাপারে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। মেয়র চট্টগ্রাম নগর উন্নয়নে বাস্তবায়িত ও চলমান প্রকল্প নগরবাসীর কাছে তুলে ধরেন।

এলাকাবাসীর বিভিন্ন  প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, নিরাপদ, বাসযোগ্য, পরিষ্কার ও সবুজ নগরী হিসেবে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দৃশ্যমান হচ্ছে। এ কাজে নগরবাসীকে আমাদের সঙ্গে পেতে চাই। আমার প্রত্যাশা উন্নত দেশের সমৃদ্ধ নগরের মতো চট্টগ্রামকে গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, নালার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ঢাকনা দিচ্ছি। যাতে পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে, ময়লা ফেলে নালায় পানি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে। ছেলেধরা ও ধর্মীয় উস্কানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন নাগরিক আচরণ ও আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য নগরবাসীকে আহ্বান জানান মেয়র। ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চসিক নিয়মিত ওষুধ ছিটানো, ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহ এবং রাতে ময়লা অপসারণ করায় অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে মশা কম, ডেঙ্গুর প্রকোপও কম। প্রতি ওয়ার্ডে ফগার ও হ্যান্ড স্প্রে মেশিনে ১৬১ জন ওষুধ ছিটাচ্ছেন। ডাক্তারদের সচেতন করেছি। নগরবাসীর অবগতির জন্য বিজ্ঞপ্তি, প্রচারপত্র বিলি করছি। ডেঙ্গু আক্রান্ত কেউ যদি চিকিৎসা করাতে অপারগতা জানান তবে আমরা দায়িত্ব নেব।

নগরে একশ’টি এসি বাস নামানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাত্রীসেবার লক্ষ্যে ১০০ এসি বাস নামানোর জন্য একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে রাজি করিয়েছি। তারা এলসি খুলেছে। বিআরটিএ, সিএমপিকে অনুরোধ জানিয়েছি দ্রুত অনুমোদন দেওয়ার জন্য। মেয়র বলেন, আমি কোনো সম্মানী বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করিনি। ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সম্মানীসহ সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে আসছি। শিক্ষার্থী, সেবা সংস্থা, রোগীদের কল্যাণে এ টাকা খরচ হচ্ছে।

নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে এক শ্রেণি পেশাজীবীর  প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, এ নগরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা পরিকল্পিতভাবে হয়েছে এটা দাবি করতে পারি না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সুপরিকল্পিত নয়। দায়িত্বজ্ঞানহীন কিছু বাসিন্দা পানি আটকে দেন, বৃষ্টি-জোয়ারের পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন ৩৮৪ কি.মি সেকেন্ডারি নালা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার শুরু হবে বলে সিডিএ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।  পাহাড়ি ঢলে জামালখান বাই লেনে বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি উঠে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ২০১৬ সালে ১১ মাস ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছিল বিশেষজ্ঞরা। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে জমা দিই। তখন জানতে পারি সিডিএ’র মেগাপ্রকল্প একনেকে উঠছে। আমরা এর বিরোধিতা করেনি, শতভাগ সহযোগিতার সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলাম। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষে ১৩টি খালের ড্রয়িং ডিজাইন কয়েকদিন আগে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে নগরে একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন বলে জানান মেয়র। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সর্বোচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছি। যা চসিকের ইতিহাসে রেকর্ড। অথচ কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন খাতে চসিকের ব্যয় ২৬০ কোটি টাকা।  আমি দায়িত্ব গ্রহণকালীন সময়ে মাসে ৯ কোটি টাকার প্রশাসনিক ব্যয় এখন ২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ৫৪ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে চসিক। মেয়র নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী যারা খাল, নালায় ময়লা ফেলে তাদের নিবৃত করতে হবে।

বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী বলেন, জামালখানের দুঃখ আসকারদীঘি। মশার প্রজনন ক্ষেত্র এটি। এ দীঘি পরিষ্কার ও দৃষ্টিনন্দন করলে জামালখানের মানুষ উপকৃত হবে। এর প্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, আসকার দীঘি ব্যক্তি মালিকানাধীন। উনার সঙ্গে কথা বলে দীঘির সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশ উন্নত করণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বিমান অফিসের পেছনের নালায় ও টাইলসের ময়লা ফেলা, সিঁড়ির গোড়ায় অবৈধ বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজি ও ওজনে কারচুপি, যানজট নিরসনে জামালখানের স্কুলগুলো আধঘণ্টা আগে পরে ছুটি দেওয়া, স্কুলবাস চালু করা, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকার বসা ইত্যাদি বিষয়ে মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মেয়র সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ ও শিক্ষাবোর্ডের সাথে আলোচনা করে সড়কের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, উন্নয়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে ৪১ ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই ধারাবাহিকভাবে জনতার মুখোমুখি হবেন মেয়র নাছির। সূত্রঃ সিভয়েস

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.