--- বিজ্ঞাপন ---

কোভিড আর ইডিয়ট মিলে কোভিডিয়ট!!

করোনা বন্দীর রোজনামচা – ২

0
রেফায়াত কবির শাওন, অতিথি লেখক ##
ইংরেজি ভাষার শব্দসম্ভার বৃদ্ধি কোন কোন দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত। কেউ একজন একটা নতুন সিচুয়েসন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শব্দ খুঁজে না পেয়ে উল্টোপাল্টা কিছু একটা বলে ফেলল আর ব্যাস, উচ্চারণ আর অর্থ সুবিধের হলে পরের বছর সেটা জুড়ে যায় ডিকশনারিতে। আর আমার মত যারা অল্পজ্ঞানী ইংরেজির মাস্টার তাদের পরতে হয় ধাঁধায়।
এই দফায় গোলমালটা লাগাল হাওয়াই দ্বীপের কোন এক শহরের মেয়র। করোনা ভাইরাসের লকডাউনের মধ্যেও তাঁর শহরে শ খানেক দু’পেয়ে গর্ধভ উদোম গায়ে ঘুরছিল পার্কে। কভিড -১৯ রোগের মধ্যে ইডিয়টের মত কাজ করায় তিনি এই বেআক্কেলদের কোভিড আর ইডিয়ট মিলিয়ে গাল দেন কোভিডিয়ট বলে। আর যায় কোথা, রাতারাতি ইংরেজি ভাষার নতুন শব্দ হয়ে গেল কোভিডিয়ট।
লন্ডনের এক পত্রিকায় এই নতুন শব্দ পড়ছিলাম, এই সময় গিন্নি আর মা জানাল বাড়িতে মরিচ আর চিনির সঙ্কট। একই সাথে এইরকম বিপরীত টাইপ দ্রব্যের সঙ্কট কিভাবে হল তা নিয়ে না ভেবে মুখে মাস্ক আর হাতে দস্তনা লাগিয়ে পা বাড়ালাম।
আশেপাশের দোকান পাট তেমন খোলা নেই। তাই সিকি কিলোমিটার দূরের বাজারের দিকে যাত্রা করলাম। পথে চার চারটি মসজিদ পরে। প্রতিটি মসজিদের মাইক থেকে মুসল্লীদের বাড়িতে নামাজ পড়তে অনুরোধ জানান হচ্ছে। একই সময়ে সব মসজিদ থেকে একই আহ্বান থেকে বুঝলাম, ব্যাপারটা সরকারি নির্দেশে । এক মসজিদের ইমাম কয়দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জামাতে নামাজ বন্ধ ও আজানের শব্দ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এক কঠিন খোতবা দিয়েছিলেন । বুঝলাম সরকারি নির্দেশে তাঁর জজবা টুটে গেছে। আরবি জানা এই ঈমাম কি বুঝতে পারছেন, তাঁর মসজিদের মাইক থেকে বাড়িতে নামাজ পড়ার জন্য বাংলায় যে ঘোষণা এল, মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদে ঠিক সেই কথাটাই আরবিতে বলা হয়েছিল আযানে।
রাস্তায় গাড়ি তেমন নেই, তবে মানুষের কোন অভাব নেই। বাজারের পথে আটকাল কয়েকজন পরিচিত। কেউ কেউ বক্তৃতা দিল, বেআক্কেল মানুষ এই ঘোর বিপদে বাইরে ঘুরছে। তিনি নিজেও যে বাইরে দাঁড়িয়ে মানুষ জমিয়ে বাইরেই আছেন তা দেখতে পেলেন না। তবে সবচেয়ে একটিভ তরুণ সমাজ। তাঁরা রীতিমত বিশাল বিশাল দলে আড্ডারত। কেউ কেউ আবার একজনের ঘাড়ের পেছন থেকে আরেকজনের মোবাইল দেখছে। অনেকটা এক টিকেটে দুই সিনেমার মত। এই অবস্থায় পুলিশ আসল। বেছে বেছে আড্ডাওয়ালাদের দিল লাঠির বাড়ি। পুলিশ যখন লাঠিপেটা করে তখন আমার সিমপ্যাথি থাকে মাইর খাওয়াদের প্রতি। এই প্রথম, উল্টো হল। ব্রাভো পুলিশ।
বলছিলাম, ইংরেজিভাষার নিয়মিত নতুন শব্দ উৎপাদন নিয়ে। ইংরেজির মাস্টার হিসেবে নতুন শব্দের তত্ব তালাশ করতে হয় বই পুস্তক খুঁজে। তবে আজকে শেখা নতুন শব্দ কোভিডিয়টস এর ব্যাবহার শিখতে আমার কোন বই ঘাটতে হয় নি। আশে পাশে এই নতুন বিশেষ্য পদের এত এত উদাহরণ !!!
তবে একটা ব্যাপারে সবাইকে সাবধান করে দিচ্ছি। এদেশিয় কোভিডিয়টসদের এত ভদ্র ইংরেজি নামে ডাকলে কোন লাভ হবে না। এদের সাথে কথা বলে সুফল পেতে আমাদের চট্টগ্রামের ভাষাই সবচেয়ে উপযোগি। ওই…. ফুত ঘরত ডুক, তোর মারে…….।### ১৬.১০.২০

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.